মালদা

আবার উত্তপ্ত মালদার কালিয়াচক। এক ব্যবসায়ীর পরিবারের ওপর হামলা দুষ্কৃতীদের, জখম ৩

আবারও উত্তপ্ত মালদার কালিয়াচক। জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর পরিবারের ওপর হামলা দুষ্কৃতীদের। ব্যবসায়ীর পরিবারকে মারধর, ভাংচুর, লুটপাট। ঘটনায় আহত ব্যবসায়ীর পরিবারের তিন সদস্য। তাঁদের মধ্যে দু’জন মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি মালদার কালিয়াচক থানার সিলামপুর গ্রামের। বিশাল পুলিশ বাহিনীর ভারী বুটের শব্দে থমথমে এলাকা।

 সিলামপুর গ্রামের চুড়িমোড়ের বাসিন্দা রফিক মোমিন। পেশায় জমি ব্যবসায়ী। তাঁর দুই ছেলে সাফিকুল ইসলাম ও আসগর আলি চিমনি ইটভাটা নিয়ে ব্যবসা করেন। স্বচ্ছল পরিবার তাঁদের। জানাগেছে গত মাস ছয়েক আগে রফিক ওই থানার আলিনগর এলাকায় প্রায় ৫ বিঘা জমি কেনেন। সেই জমির কিছু অংশ তিনি এর মধ্যেই বিক্রি করে ফেলেছেন। তবে সেই জমি এখনো রেজিস্ট্র হয়নি। আর সেই জমিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল রফিক বাবুর। 

        রফিক জানান, এলাকায় দুষ্কৃতী হিসেবে পরিচিত আজিম শেখ সহ ৬ জন বুধবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে এসে বলে, তাদের ১০ কাঠা জমি আলিনগরে রয়েছে। সেই জমি তাঁকে কিনতে হবে। কিন্তু, ওই জমি কিনে তাঁর কোনও লাভ হবে না। তাই তিনি ওই জমি কিনতে অস্বীকার করেন। তখনই তাঁকে মারতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। তা দেখে এগিয়ে আসে তাঁর ছেলে সাফিকুল। সেসময় ছেলে এক দুষ্কৃতীকে চড়ও মারে। দুষ্কৃতীরা তখনকার মতো সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ বাদে তারা ফের ফিরে আসে। সঙ্গে ছিল প্রায় শতাধিক মানুষ। তারা এসে বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে শুরু করে। কয়েকজন বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। বাড়িতে থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ৭ ভরি সোনার গয়না লুট করে নিয়ে যায় তারা। বাধা দিতে গিয়ে তাদের হাতে বেধড়ক মার খান তাঁর ভাই আকবর আলি, বোন মানোয়ারা খাতুন ও মেয়ে সঞ্জিনা খাতুন। দুষ্কৃতীদের দাপটে সকলেই আতঙ্কিত। তাঁরা কোনওরকমে তাদের বের করে বাড়ির মূল দরজার সাটার লাগিয়ে দেন। খবর দেন কালিয়াচক থানায়। পুলিশ আসার আগেই সেখান থেকে চলে যায় দুষ্কৃতী আজিমের দল। 


        
ব্যবসায়ীর ছেলে সাফিকুলের অভিযোগ, কালিয়াচকের আজিম শেখ ও ডাম্পি শেখ, সুলতানগঞ্জের মুক্তার শেখ ও ওয়েদুর শেখ, কালিকাপুরের টনি শেখ ও মার্চেন্ট শেখ, সর্দারটোলার সামশের শেখের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর তাঁরা আহত ৩ জনকে সিলামপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁর বোনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর কাকা ও পিসির আঘাত বেশি থাকায় তাঁদের মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই অবস্থায় তাঁরা আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না। ঘটনার প্রেক্ষিতে থানাতেও লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেননি। 

        কালিয়াচক থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকর্মীরা চুড়িমোড় এলাকায় যান। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এনিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ দায়ের হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে 
https://www.youtube.com/embed/Bgpo8aPEN2M